বাজারে আসছে দ্রুত গতিসম্পন্ন ইলেকট্রিক মোটর বাইক!

বাজারে আসছে দ্রুত গতিসম্পন্ন ইলেকট্রিক মোটর বাইক!

0
Loading...

জোহ্যামার নামের একজন ইঞ্জিনিয়ার ইলেক্ট্রো ক্রুসিয়ার নামে একটি ইলেক্ট্রিক মোটর সাইকেল তৈরি করেছে যা দেখতে সত্যি অনন্য। প্রথম দেখাতে মনে হবে একটি ইলেকট্রিক কলকব্জা সংবলিত শামুক।

নর্থ-অস্ট্রিয়ান রোডস্টার মোটরসাইকেল কোম্পানী লিঞ্জ গত ফ্রেব্রুয়ারীতে একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইলেক্ট্রোক্রুসিয়ারকে তুলে ধরেন। এছাড়াও তারা জানান এটি উৎপাদনের খুব কাছাকাছি তারা রয়েছেন। ইলেক্ট্রিক মোটর বাইকটি দেখতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও এর নির্মাতা কোম্পানী জানান, এটি ভবিষ্যতের মডেল হিসেবে বাজারে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। এরমধ্যে গতানুগতিক ধারার কোন ছাপই নেই। স্পিড ইন্ডিকেটর, চার্জ ইন্ডিকেটর এবং আয়না প্যানেলটিও কিছুটা ব্যতিক্রম আকারে তৈরি করা হয়েছে।

Loading...

এর মাঝখানের হাব কেন্দ্রটি স্টিয়ারিং এবং সাসপেনশন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। নতুন ধরনের এই ইউনিট সিস্টেমটি সাসপেনশন বলে থাকা অবস্থায় এবং ড্রাইভিং অবস্থায় ব্রেক করার ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে। এই নতুন ব্যবস্থাটির ফলে বাইকের আকারে বেশ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়। ফলে একে অনেকটা প্রদর্শনীর জন্য ব্যবহৃত বাইকের মতো মনে হয়। কিন্তু এর নির্মাতারা বলছেন, ব্যাটারী এবং নতুন ইউনিট সিস্টেমের পাশাপাশি এর গতিবেগ ঠিক রাখার জন্য একে এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে।

এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এর ব্যাটারীর দীর্ঘজীবিতা। ১২.৭ কিলোওয়াটের ব্যাটারীর মূল ধারণ ক্ষমতা। জোহ্যামারের প্রথম সংস্করণ জিরো এস জেডএফ১১.৪টি একবার পূর্ণ চার্জের মাধ্যমে ২০০ কিলোমিটার বা ১২৪ মাইল ভ্রমণ করতে পারবে। সত্যিকার অর্থে একটি পেট্রোল দ্বারা চালিত মোটরবাইক ২০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে পারে না। সে হিসেবে এই ইলেক্ট্রিক বাইকটি অনেক উন্নত। ব্যাটারী মডিউলটি তৈরি করা হয়েছে জোহ্যামারের বাড়িতে বসে। তাকে ব্যাটারীর ডিজাইনটি দিয়েছিল একটি কোম্পানী আরো উন্নত সংস্করণ তৈরি করে দেওয়ার জন্য যেন তা ভালোভাবে কাজ করে। ব্যাটারির গ্যারান্টেড সার্ভিস লাইফ হলো প্রায় ২০০০০০০ কিলোমিটার অর্থাৎ ১২৪০০০ মাইল। এর মানে হলো প্রায় ৪ বছর এই ব্যাটারী ব্যবহার করা যাবে। চারবছরে ব্যাটারির দীর্ঘজীবিতা হ্রাস পাবে ৮৫ শতাংশ।

জোহ্যামার তার এই ইলেক্ট্রিক মোটর বাইকে দুই সেট পা রাখার স্ট্যান্ড ব্যবহার করেছেন। জোহ্যামার মনে করেন, এতে করে ব্যবহারকারী অল্প দূরত্বের ক্ষেত্রে একটি ব্যবহার করতে পারবেন আর লম্বা দূরত্বের ক্ষেত্রে আরামদায়কভাবে বাইক চালাতে ব্যবহারকারীর সুবিধা হবে। অতিরিক্ত যে পায়ের স্ট্যান্ডটি এখানে ব্যবহার করা হয়েছে, তার সাথে নিয়ন্ত্রণের কোন সম্পর্ক নেই- এটি শুধুমাত্র যাত্রীর আরামদায়ক ভ্রমণের জন্যই দেওয়া হয়েছে।

এবার আসা যাক এর দামের প্রসঙ্গে, এর দামটি গতানুগতিক মোটর বাইক থেকে অনেক বেশি। বড় আকারের ব্যাটারী, ফ্যাশনেবল আয়না এবং নতুন ধরনের হাব কেন্দ্র ভিত্তিক স্টিয়ারিং এর কারণে বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন এর দাম অনেক বেশি হবে। একটি প্রতিঘণ্টার ৮.৩ কিলোওয়াটের ব্যাটারির মোটর বাইকের বাজারমূল্য ২৩০০০ ইউরো বা ৩১৮৬০ মার্কিন ডলার। আবার ১২.৭ কিলোওয়াটের এই মোটর বাইকটির বাজারমূল্য অনুসারে দাম হওয়ার কথা ২৫০০০ ইউরো বা ৩৪৬৩০ মার্কিন ডলার।

তথ্যসূত্রঃ গিজম্যাগ

Loading...

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন!
[X]
Loading...