দাঁতের যত্নের নানান দিক

0
Loading...

দাঁতের যত্নে আমরা কত কিছুই না করি। কিন্তু তারপরেও সমস্যায় পড়তে হয়। সমস্যাগুলো অনেক সময় বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। ফলে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হয়। তবে নিজ থেকে সতর্ক থাকলে অনেক সমস্যাই সহজে দূর করা যায়। সুস্থ ও সবল দেহের জন্য দাঁত ও মাড়ির তথা মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা একান্ত প্রয়োজন।

দাঁত ও মুখের ভেতরের স্বাস্থ্যকে অবহেলা করে নীরোগ জীবন আশা করা যায় না। সৌন্দর্যের জন্য যেমন দাঁতের প্রয়োজন, তেমনি সুস্বাস্থ্যের জন্যও দাঁতের প্রয়োজন। দাঁতের যত্নের কথা বলতে গেলে প্রথম যে কথাটা আসে তা হচ্ছে, খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাস । অর্থাৎ খাওয়া-দাওয়ার অভ্যাসের সাথে দাঁতের স্বাস্থ্য অনেকখানি নির্ভরশীল ।

Loading...

যারা বেশি বেশি খান এবং খাওয়া দাওয়ার পরে দাঁত সুন্দর করে পরিষ্কার করেন না এবং দাঁতে খাবার লেগে থাকে, তাদের দাঁত এবং মাড়ি খুব সহজেই নষ্ট হতে পারে । সুতরাং খাওয়া দাওয়ার পরেই ভালো করে দাঁত এবং মুখ পরিষ্কার করতে হবে এটা যেমন গুরুত্বপূর্ণ; তেমনিভাবে কি খাওয়া হচ্ছে তাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শাক-শব্জি, ফলমূল ও আঁশ যুক্ত খাবার এগুলো বেশি খাওয়া ভালো আর মিষ্টি জাতীয় খাবার যতটুকু সম্ভব কম খাওয়াই ভালো। এর মধ্যে বরং আমিষ জাতীয় খাবারের উপরে প্রাধান্য দেয়া উচিত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে- আপনি কখন এবং কিভাবে দাঁত ব্রাশ করছেন ?

দাঁতের যত্নের জন্য নিয়মিত এবং নিয়মমত দাঁত ব্রাশ জরুরী । আর সেটা হলো রাতে ঘুমের আগে এবং সকালে নাস্তার পরে ব্রাশ করা দরকার। এই দুইটি সময়ে যিনি দাঁত পরিষ্কার করবেন তার দাঁতের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রেই কম হবে । আরেকটি বিষয় যা আমাদের মনে রাখতে হবে সেটা হচ্ছে, অন্তত বছরে একবার ডেন্টিস্টের কাছে গিয়ে দাঁত এবং মুখ পরীক্ষা করাবেন।

কারণ প্রাথমিক অবস্থায় দাঁত বা মুখের কোন সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে তা দ্রুত সারিয়ে ফেলা সম্ভব। দাঁত পরিষ্কার করার জন্য কোন ক্রমেই গুল, কয়লা, ছাই, বালি এগুলো ব্যবহার করা ঠিক নয় এতে বরং দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয় । আর মেসওয়াক ব্যবহারের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হবে যে মেসওয়াক দ্বারা দাঁতের প্রতিটি অংশ যেনো পরিস্কার করা হয়।

অধিকাংশ সময়ই মেসওয়াক ব্যবহারকারী তা করতে পারেন না বা মেসওয়াক দিয়ে এভাবে দাঁত পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে মেসওয়াক ব্যবহার করা সত্ত্বেও দাঁতের ক্ষতি হয় বলে দেখা যায়। আর এসব বিবেচনা করে ব্রাশ ও পেস্টই হলো দাঁতে পরিস্কার রাখার জন্য সবচেয়ে সহজলভ্য এবং দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

তাই আমাদের জানতে হবে সঠিক ব্রাশ ও এর ব্যবহার এবং কতোবার ব্রাশ করা উচিত ও কিভাবে করা উচিত সেই বিষয়ে।

কেমন টুথব্রাশঃ

নরম থেকে মধ্যম টুথব্রাশ ব্যবহার করাই উত্তম। লক্ষ রাখবেন যে শলাকাগুলোর মাথা শক্তভাবে মেলানো ও সব শলাকা মিলে একটি সমান জায়গায় আছে । তবে যত ধরনের ব্রাশই থাকুক না কেন, দাঁত ও মাড়ির ওপর থেকে খাদ্যকণা দূর করে ফেলাই দাঁত ব্রাশ করার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

একটি টুথব্রাশ কত দিন ব্যবহার করবেন:

যখন ব্রাশের শলাকাগুলো সমান অবস্থানে না থেকে ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় চলে আসে এবং শলাকার মাথাগুলো সোজা না থেকে বাঁকা হয়ে যায়, তখন সেই ব্রাশটি ব্যবহারের উপযোগী থাকে না। নিয়মিত ব্যবহূত একটি ব্রাশ সাধারণত দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

কতবার দাঁত ব্রাশ করবেন:

প্রতিদিন দুবার দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন—সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে। প্রতিবারই তিন-চার মিনিট দাঁত ব্রাশের পর প্লাক পরিষ্কার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে।

ব্রাশ করবার সঠিক উপায়:

আমরা সাধারণভাবে ডানে, বামে ব্রাশ চালিয়ে দাঁত পরিস্কার করার চেষ্টা করি । কিন্ত সবচে ভালো হয় যদি উপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে উপরে ব্রাশ চালানো হয় । তাহলে দাঁতগুলোর ফাঁকের মধ্যে যে সমস্ত খাবার বা ময়লা জমা হয়ে থাকে সেগুলো পরিষ্কার হয়ে যায় ।ব্রাশটিকে দাঁতের গোড়ার দিকে খুব ধীরে অথচ শক্তভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটু ঝাঁকিয়ে সব দাঁতের ফাঁকের কাছে নিতে হবে।

এমনভাবে ব্রাশ করতে হবে, যাতে দাঁতের বাইরের অথবা ভেতরের কোনো অংশ বাদ না পড়ে। ব্রাশ ও পেস্ট ছাড়াও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। যেমন, নিমের ডালকে ব্রাশের মতো ছিলে ব্যবহার করা যায়। লক্ষ রাখতে হবে, দাঁতের ফাঁকে বা দাঁতের গায়ে লেগে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার হয়েছে কি না।

দাঁত পরিষ্কার করার পর একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে নেওয়া ভালো, সত্যি সত্যি দাঁত পরিষ্কার হয়েছে কি না। দাঁত শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুন্দর হাসির জন্য দাঁতের যেমন প্রয়োজন, তেমনি খাদ্যদ্রব্য চিবানো এবং মুখ ও চোয়ালের সৌন্দর্য রক্ষার জন্যও দাঁতের গুরত্ব অনেক।

খাওয়া দাওয়ার পরে দাঁত ভালো করে পরিষ্কার রাখা জরুরী এবং কোনভাবেই খাবার মুখে নিয়ে ঘুমানো ঠিক নয় । আর যখনই দাঁতের কোন রকম সমস্যা বোধ করবেন সাথে সাথে নিকটস্থ দাঁতের ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

Loading...

নিয়মিত আপডেট পেতে লাইক দিয়ে সাথে থাকুন!
[X]
Loading...